বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ১৬ আগস্ট ২০২৪; আপডেট: ১৯:০৩, ১৬ আগস্ট ২০২৪
কলকাতা শহরে আর জি কর হাসপাতালে কতর্ব্যরত অবস্থায় একজন তরুণী চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশের নারী শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যে পাদদেশে ''আওয়াজ তোলো নারী'' ব্যানারে এই মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা ভারতে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় নিহত মৌমিতাসহ বাংলাদেশে সকল ধর্ষের ঘটনার বিচার দাবি করেন।
মানববন্ধনে ঢাবির শিক্ষার্থী আলেয়া তাহমিম বলেন, আমরা বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে ইন্ডিয়ার কথা বলছি, এটা আমার কাছে আইরনি লাগতেছে। সেখানে অন্তত ধর্ষণের নিরপেক্ষ বিচার করার জন্য বিচার বিভাগ ও পুলিশের কিছু স্বাধীনতা আছে। কিন্তু গত পনের বছর ধরে আমাদের দেশে পুলিশ বা বিচার বিভাগের এই ধরনের স্বাধীনতা ছিলো না। গত ক্ষমতাসীন সরকার ধর্ষকদের বিচার করার চাইতে শেল্টার দিয়েছে বেশি।
তনু হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে দেশের সেনাবাহিনীর এক চতুর্থাংশ সেনা সদস্য মোতায়েন থাকে, সেখানে কীভাবে ধর্ষণ হয়? এর দায় যদি সেনাবাহিনী না নিয়ে বলে, আমরা এ বিষয়ে জানি না। তাহলে এর চাইতে আইরনি আর কিছু হতে পারে না। ধর্ষণের মামলার ঘটনায় ধর্ষিতাকে সেনসেটিভ প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করে তোলে, যার ফলে এক পর্যায়ে ভিক্টিম মীমাংসা করতে বাধ্য হয়। এমনটি দেখা গেছে, আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের ঘটনায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিশা জামাল বলেন, আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনা এতোই বেশি যে একটি ঘটনা বলতে গেলে আরেকটি ঘটনা মনে করতে পারি না। সিলেট এমসি কলেজের ধর্ষণের ঘটনায় নিউজ দেখলাম, সেখানে চারটি নিউজ চার রকম। কিন্তু কোনোটাই ধর্ষকদের দিয়ে ভালোভাবে লেখা হয়নি। কেনো হচ্ছে এসব? সাড়ে চার হাজার মামলা দাখিল করা মামলা থেকে পাঁচটি মামলার ন্যায়বিচার পায় না।
আমাদেরকে বলা হয়, মেয়েদের সেল্ফ ডিফেন্স শিখতে হবে, কারাতে শিখতে হবে। আমাদের এসব বিষয়ে সরকারি, বেসরকারি নানান সেমিনার করা হয়। কিন্তু ছেলেদের নিয়ে কয়টা সেমিনার হয়েছে, যেখানে মেয়েদের শরীরটাকে মেয়েদের শরীর না ভেবে মানুষের শরীর ভাববে,আমি মেয়ে হওয়ার আগে মানুষ।
আসুন, শুধু আইন ও বিচার বিভাগের দিকে না তাকিয়ে থেকে, নিজ নিজ জায়গায় থেকে আওয়াজ তুলি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে, হেনস্তারকারীদের বিরুদ্ধে।
এ সময় তারা -''কলকাতা টু বাংলাদেশ, উই ওয়ান্ট জাস্টিস','জাস্টিস ফর আর জি কর,জাস্টিস ফর মৌমিতা','ধর্ষকের শাস্তি একটাই, মৃত্যুদন্ড ছাড়া কথা নাই','প্রশ্ন যখন স্বাধীনতা,বাংলা জুড়ে ওয়াদ্দেদার' ইত্যাদি লেখা প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন।



Post a Comment